NoteShare

tarbiyah-2


مؤسسة الفردوس
আল ফিরদাউস
Al Firdaws
 
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

 

في اللغة البنغالية
বাংলা ভাষায়
In the Bengali Language

 

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled: 


المذاكرة التربوية -الحلقة ٢
الدعاء- العريضة 
اهميتھا  وادابها و بعض الكلمات بها
তরবিয়াতি মুযাকারা- সিরিজ ২
দোয়া - মোনাজাত
গুরুত্ব, আদব ও কিছু আরজ
Tarbiyati Muzakara - Series 2
Doa - munajat : Importance, manners and some requests

 

لمولانا عبد الله حذيفة حفظه الله 
মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা হাফিযাহুল্লাহ
By Mawlana Abdullah Huzaifa Hafizahullah

 

 

 

للقرائة المباشرة والتحميل
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading

 


روابط بي دي اب
PDF (842 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৮৪২ কিলোবাইট]
https://archive.org/details/2.-doa-monajat-maolana-abdullah-huzaifa-hafizahullah


https://archive.org/download/2.-doa-monajat-maolana-abdullah-huzaifa-hafizahullah/2.%20Doa-Monajat%20-%20MaolanaAbdullahHuzaifaHafizahullah.pdf


https://www.gulf-up.com/x41u5aye8xe9


https://top4top.io/downloadf-1754wmdw51-pdf.html


https://www.sendspace.com/file/btbfhl


https://gofile.io/d/0zSYV5


https://mymegacloud.com/index.php?dl=f02fa23a667ab7ec9bb45b93d05c905b


https://mega.nz/file/TJRnCSbL#6ACwy2ROQu8Je8rDncs9IqRdvI1KyuPDSu0RTA0P_Tc


https://anonfiles.com/x9b1H0hcp8/2._Doa-Monajat_-_MaolanaAbdullahHuzaifaHafizahullah_pdf

 

 

روابط ورد 
Word (198 KB)
ওয়ার্ড [১৯৮ কিলোবাইট]
https://archive.org/details/2.-doa-monajat-maolana-abdullah-huzaifa-hafizahullah_202010


https://archive.org/download/2.-doa-monajat-maolana-abdullah-huzaifa-hafizahullah_202010/2.%20Doa-Monajat%20-%20MaolanaAbdullahHuzaifaHafizahullah.docx


https://www.gulf-up.com/1j7803yd6lct


https://gofile.io/d/GFACPP


https://top4top.io/downloadf-17543i0wd1-docx.html


https://www.sendspace.com/file/monvz4


https://mymegacloud.com/index.php?dl=9aeec3b1600d77ff3e356bb45ad81585


https://mega.nz/file/eJYhUCCJ#jH8tZb_PYfcCkRPpS5uV_ZJa8rfl2vz7fP8NMRV-SL4+


https://anonfiles.com/ncb8H9h9p1/2._Doa-Monajat_-_MaolanaAbdullahHuzaifaHafizahullah_docx

 

 

روابط الغلاف- ١ 
book Banner [88 KB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৮৮ কিলোবাইট]


https://mymegacloud.com/index.php?dl=a018c21ea5e781536ae4b082c7b13a11


https://mega.nz/file/WQBTACTA#Zp2dRhU1r5j1algkZ93VWK3pTAUtf19SbvLtZvPewNE


https://ibb.co/hRxqfYr

 

 

روابط الغلاف- ٢  
Banner [64 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন  [৬৪ কিলোবাইট]


https://mymegacloud.com/index.php?dl=b0d6a62c445d96e41a3ed5f9f5f12fef


https://mega.nz/file/zJQHRSAJ#oVqRsZDvzJ0JT78zB8apSAxxLj8_VQs3QGWJ6ASBEjQ


https://ibb.co/LR8QywS

 

*********************

c5a2e66ed9f539ffb63c73c8d03c2ccc.png

মুযাকারা সিরিজ : ০২

 

দোয়া-মোনাজাত

গুরুত্ব, আদব ও কিছু আরজ

 

 

 

মাওলানা আব্দুল্লাহ হুযাইফা হাফিযাহুল্লাহ

 

 

 

 

 

 

সূচিপত্র

 

দোয়ার গুরুত্ব. 5

দোয়ার গুরুত্ব সংক্রান্ত কিছু হাদীস. 6

দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছু তাকদির ফিরাতে পারে না. 6

সকল বিপদাপদেই দোয়া কাজে আসে.. 6

আল্লাহ ভাণ্ডার থেকে একটুও কমে না. 7

দোয়ার চেয়ে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন কোনো কিছু নেই. 9

যে আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ তার প্রতি রাগ করেন. 9

দোয়া কখনো বিফলে যায় না. 9

দোয়ার কিছু আদব. 10

দোয়ার ব্যাপারে কিছু আরজ. 14

দোয়া ও আযকারের রুহ. 14

দোয়া করার সময় তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখব. 15

মাসনূন দোয়াগুলোও গুরুত্বসহকারে পড়ব. 16

মাসনুন দোয়াগুলোর পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করব. 17

দোয়া করা স্বতন্ত্র একটি আমল. 17

একটি বা দুটি দোয়া সারাদিন করা. 18

মাঝে মাঝে হাত তুলে দোয়া করা. 18

নফল নামাযের সেজদায় গিয়ে দোয়া করা. 19

শেষ রাতে ইস্তেগফার করা. 20

রযমানের সময়গুলোর কদর করি. 21

 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم

الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِيْنَ، وَعَلَى أله وَأَصْحَابِهِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ، أَمَّا بَعْدُ

মুহতারাম ভাইয়েরা, রমযানের আগের মজলিসে কুরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে কিছু কথা মুযাকারা করা হয়েছিল। আজ ইনশাআল্লাহ দোয়া ও মোনাজাত সম্পর্কে কিছু কথা মুযাকারা করার ইচ্ছা করছি। আল্লাহ তাআলা ইখলাস ও ইতকানের সাথে কথাগুলো বলার এবং আমাদেরকে সে মোতাবেক আমল করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

মুযাকারার শুরুতে ভাইদেরকে শুধু একটু স্মরণ করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে দোয়ার গুরুত্ব ও আদব নিয়ে কিছু কথা বলে নিই।

দোয়ার গুরুত্ব

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

.‏ وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِیْۤ اَسْتَجِبْ لَكُمْ اِنَّ الَّذِیْنَ یَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِیْ سَیَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیْنَ۠

তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদত করতে অহংকার করে তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সূরা মুমিন (৪০) : ৬০

وَاِذَا سَاَلَكَ عِبَادِیْ عَنِّیْ فَاِنِّیْ قَرِیْبٌ اُجِیْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ فَلْیَسْتَجِیْبُوْا لِیْ وَ لْیُؤْمِنُوْا بِیْ لَعَلَّهُمْ یَرْشُدُوْنَ.‏

আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন আপনি বলে দিন) আমি কাছেই রয়েছি। যারা আমাকে ডাকে আমি তাদের ডাকে সাড়া দেই যখন আমাকে ডাকে। অতএব তারাও যেন আমার হুকুম মান্য করে এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। তাহলে তারা সঠিক পথ লাভ করবে। সূরা বাকারা (০২) : ১৮৬

تَتَجَافٰی جُنُوْبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ یَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَّ طَمَعًا.‏

তাদের পার্শ্ব বিছানা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে। সূরা সাজদা (৩২) : ১৬

দেখুন ভাই, এখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের একটি গুণ উল্লেখ করছেন যে, তাঁরা ভয় ও আশা নিয়ে তাঁদের প্রতিপালককে ডাকে। একদিকে তাঁরা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে অপর দিকে আল্লাহর রহমতের আশাবাদীও থাকে। এটাই হচ্ছে প্রকৃত মুমিনের শান। আল্লাহ আমাদেরকেও এগুণটি দান করেন আমীন।

দোয়ার গুরুত্ব সংক্রান্ত কিছু হাদীস

দোয়াই ইবাদত

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الدعاء هو العبادة

দোয়াই ইবাদত। (জামে তিরমিযী : ২৯৬৯; হাদীসটি হাসান সহীহ)

দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছু তাকদির ফিরাতে পারে না

হযরত সালমান ফারেসি রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لاَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ وَلاَ يَزِيدُ فِي الْعُمُرِ إِلاَّ الْبِرُّ.‏

দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছু তাকদির ফিরাতে পারে না এবং নেক আমল ছাড়া অন্য কিছু আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না। (জামে তিরমিযী : ২১৩৯; হাদীসটি হাসান)

সকল বিপদাপদেই দোয়া কাজে আসে

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাযি থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ الدُّعَاءَ يَنْفَعُ مِمَّا نَزَلَ وَمِمَّا لَمْ يَنْزِلْ فَعَلَيْكُمْ عِبَادَ اللَّهِ بِالدُّعَاءِ.‏

যে বিপদ-আপদ এসেছে আর যা এখনও আসেনি উভয় ক্ষেত্রেই দোয়া কাজে আসে। অতএব হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা অবশ্যই দোয়া করতে থাকো। (সহীহুল জামে : ৩৪০; হাদীসটি হাসান)

আল্লাহ ভাণ্ডার থেকে একটুও কমে না

হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا عِبَادي، إنِّي حَرَّمْتُ الظُلْمَ عَلَى نَفْسي وَجَعَلْتُهُ بيْنَكم مُحَرَّمًا فَلا تَظَالَمُوا، يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ ضَالّ إلا مَنْ هَدَيْتُهُ  فَاستَهدُوني أهْدِكُمْ، يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ جَائِعٌ إلا مَنْ أطْعَمْتُهُ فَاستَطعِمُوني أُطْعِمْكُمْ، يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ عَارٍ إلا مَنْ كَسَوْتُهُ فاسْتَكْسُونِي أكْسُكُمْ، يَا عِبَادي، إنَّكُمْ تُخْطِئُونَ باللَّيلِ وَالنَّهارِ وَأَنَا أغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا، فَاسْتَغْفِرُوني أغْفِرْ لَكُمْ، يَا عِبَادي، إنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغوا ضُرِّي فَتَضُرُّوني، وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفعِي فَتَنْفَعُوني، يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذلِكَ في مُلكي شيئًا، يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مَا نَقَصَ ذلِكَ من مُلكي شيئًا، يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ قَامُوا في صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَألُوني فَأعْطَيتُ كُلَّ إنْسَانٍ مَسْألَتَهُ مَا نَقَصَ ذلِكَ مِمَّا عِنْدِي إلا كما يَنْقصُ المِخْيَطُ إِذَا أُدْخِلَ البَحْرَ، يَا عِبَادي، إِنَّمَا هِيَ أعْمَالُكُمْ أُحْصِيهَا لَكُمْ ثُمَّ أوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيرًا فَلْيَحْمَدِ الله وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذلِكَ فَلا يَلُومَنَّ إلا نَفْسَهُ . قَالَ سعيد : كَانَ أَبُو إدريس إِذَا حَدَّثَ بهذا الحديث جَثا عَلَى رُكبتيه . رواه مسلم

হে আমার বান্দারা, আমি জুলুম করাকে নিজের ওপর হারাম করেছি এবং তোমাদের ওপরও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অন্যের ওপর জুলুম করো না।

হে আমার বান্দারা, আমি যাকে সঠিক পথে পরিচালিত করি সে ছাড়া তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট। অতএব আমার কাছেই সঠিক পথ কামনা করো। আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবো।

হে আমার বান্দারা, আমি যাকে খাদ্য দেই সে ছাড়া তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত। অতএব আমার কাছেই খাদ্য চাও আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেবো।

হে আমার বান্দারা, আমি যাকে বস্ত্র দেই সে ছাড়া তোমরা সবাই বস্ত্রহীন। অতএব আমার কাছেই বস্ত্র চাও। আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দেবো।

হে আমার বান্দারা, তোমরা দিন-রাত পাপ করে থাকো আর আমি সমস্ত পাপ ক্ষমা করে থাকি। সুতরাং তোমরা আমার কাছেই ক্ষমাপ্রার্থনা করো আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।

হে আমার বান্দারা, তোমরা কখনও আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং কখনও কোনো উপকারও করতে পারবে না।

হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের পূর্বের-পরের সকল মানুষ ও জিন তোমাদের মধ্যকার সবচেয়ে পরহেযগার লোকটির অন্তরের মতো অন্তরের অধিকারী হয়ে যায় তবুও আমার রাজত্বের কিছুই বৃদ্ধি পাবে না।

হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের পূর্বের-পরের সকল মানুষ ও জিন তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকটির অন্তরের মতো অন্তরের অধিকারী হয়ে যায় তবুও আমার রাজত্বের কিছুই হ্রাস পাবে না।

হে আমার বান্দারা, যদি তোমাদের পূর্বের-পরের সকল মানুষ ও জিন একটি খোলা ময়দানে একত্রিত হয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে আর আমি তাদের প্রত্যেককে তার প্রার্থিত জিনিস দান করি তাহলে এর দ্বারা আমার কাছে যা আছে তা থেকে ততটুকুই কমবে যতটুকু কোনো সমুদ্রে সূঁচ ডুবালে কমে। (অর্থাৎ মোটেই কমবে না)

হে আমার বান্দারা, আমি তোমাদের আমলগুলো সংরক্ষণ করে রাখছি। আমি তোমাদেরকে তার পূর্ণ প্রতিদান দেবো। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণকর কিছু পাবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে অন্য কিছু (অর্থাৎ অকল্যাণকর কিছু) পাবে সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে। (সহী মুসলিম : ২৫৭৭)

দোয়ার চেয়ে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন কোনো কিছু নেই

হযরত আবু হুরাইরা রাযি থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

ليسَ شيءٌ أكرمَ على اللهِ عز و جل من الدُّعاءِ.

আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক মর্যাদা সম্পন্ন কোনো কিছু নেই। (জামে তিরমিযী : ৩৩৭০; হাদীসটি হাসান; মুসনাদে আহমদ : ৮৭৪৮)

যে আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ তার প্রতি রাগ করেন

হযরত আবু হুরাইরা রাযি থেকেই বর্ণিত অপর একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من لم يسأل الله يغضب عليه.

যে আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ তার প্রতি রাগ করেন। (জামে তিরমিযী : ৩৩৭৩; হাদীসটি হাসান; মুসনাদে আহমদ : ৯৭১৯)

দেখুন ভাই, আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে কী পাথর্ক্য! কোনো মানুষ যত বড় ধনীই হোক, তার কাছে বেশি বেশি চাওয়া হলে সে এক সময় রাগ হয়ে যায়। দিতে চায় না। কিন্তু আল্লাহ তাআলার শানই আলাদা। তাঁর কাছে যে যত চাইবে তার প্রতি আল্লাহর রহমত, দয়া ও করুণা ততই বর্ষিত হতে থাকবে। যারা তাঁর কাছে চায় না আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। সুবহানাল্লাহ!

দোয়া কখনো বিফলে যায় না

দুনিয়ার কোনো মানুষের কাছে কিছু চাইলে তা পাওয়া যেতে পারে, আবার না-ও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি কখনো তাঁর বান্দাকে বঞ্চিত করেন না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

ما من رجل مسلمٍ دعا الله عزوجل بدعوةٍ ليس فيها إثمٌ ولا قطيعةُ رحمٍ إلَّا أعطاه اللهُ إحدَى خصال ثلاثٍ : إمَّا أن يعجِّل له دعوتَه، وإمَّا أن يدَّخِرَ له في الآخرةِ، وإمَّا أن يدفعَ عنه من السُّوءِ مثلَها

যখনই কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে এমন কোনো দোয়া করে, যে দোয়াতে গুনাহ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো বিষয় থাকে না, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে তিনটি জিনিসের কোনো একটি অবশ্যই দান করেন। হয়তো সঙ্গে সঙ্গে তার প্রার্থিত জিনিসটি দিয়ে দেন কিংবা তার জন্য আখেরাতে এর পুরস্কার সঞ্চয় করে রাখেন কিংবা দোয়ার ওসিলায় তার থেকে কোনো বিপদ দূর করে দেন।

এ কথা শুনে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম বললেন, তাহলে তো আমরা বেশি বেশি দোয়া করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, فالله عزوجل أكثر  আল্লাহর দান অনেক অনেক বেশি। (আততারগীব : ২/৩৮৯; হাদীসটির সনদ জায়্যিদ; মুসনাদে আহমদ : ১১১৩৩)

দোয়ার কিছু আদব

এক. দোয়ার আগে আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা পড়া। আরবিতে পড়তে পারলে তো সবচেয়ে ভালো। আরবিতে না পারলে নিজের ভাষায়ই আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা করা। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের ওপর দুরুদ পড়া। দুরুদ পড়ে অত্যন্ত অনুনয়-বিনয়ের সাথে নিজের  ছোট বড় সকল উদ্দেশ্যের জন্য দোয়া করা। এভাবে দোয়া করা হলে ইনশাআল্লাহ দোয়া অবশ্যই কবুল হবে।

জামে তিরমিযীতে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে,

عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ : بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدٌ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عَجِلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي ؛ إِذَا صَلَّيْتَ، فَقَعَدْتَ، فَاحْمَدِ اللَّهَ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، وَصَلِّ عَلَيَّ ثُمَّ ادْعُهُ . قَالَ : ثُمَّ صَلَّى رَجُلٌ آخَرُ بَعْدَ ذَلِكَ فَحَمِدَ اللَّهَ، وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّهَا الْمُصَلِّي، ادْعُ تُجَبْ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ، وَقَدْ رَوَاهُ حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلَانِيِّ، وَأَبُو هَانِئٍ اسْمُهُ حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ، وَأَبُو عَلِيٍّ الْجَنْبِيُّ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ.

হযরত ফাযালা বিন উবায়েদ রাযি. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) বসা ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে নামায পড়লেন। নামায পড়েই এ বলে দোয়া শুরু করলেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي،

হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার প্রতি দয়া করুন।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, তুমিতো তাড়াহুড়া করে ফেলছ। নামায শেষ করে বসে প্রথমে আল্লাহ তাআলার হামদ-ছানা পড়বে। এরপর আমার ওপর দুরুদ পড়বে। এরপর দোয়া করবে।  

হযরত ফাযালা রাযি. বলেন, কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে নামায পড়ল এরপর প্রথমে হামদ-ছানা পড়ল। এরপর দুরুদ পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, (যা ইচ্ছা) দোয়া করো, কবুল হবে। (জামে তিরমিযী : ৩৪৭৬; হাদীসটি সহী)

হযরত আনাস রাযি. বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে - তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে নামায পড়ল। নামায শেষ করে নিম্নের বাক্যগুলো বলে দোয়া করল,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ .

হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট চাচ্ছি কারণ, সকল প্রশংসা একমাত্র আপনারই জন্য। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি অনুগ্রহকারী, আসমান-জমিনের উদ্ভাবক, হে বড়ত্ব ও মর্যাদার অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক!

বাক্যগুলো শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বললেন,

لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْعَظِيمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ، وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى.

লোকটি আল্লাহর সেই মহান নামের ওসিলায় দোয়া করছে যার ওসিলা দিয়ে তাঁর কাছে দোয়া করা হলে তিনি দোয়া কবুল হয় এবং কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৪৯৫; হাদীসটি সহী)

দুই. বিভিন্ন হাদীসে আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির ওসিলায় দোয়া চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

ألظوا بيا ذا الجلالِ والإكرامِ.

‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ বলে বলে দোয়া চাও। (জামে তিরমিযী : ৩৫২৫; হাদীসটি সহী)

তিন. দোয়ার প্রতিটি বাক্য কমপক্ষে তিনবার বলা। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন,

كانَ إذا دَعا دَعا ثَلاثًا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন তিন তিনবার করে দোয়া করতেন। (সহী মুসলিম : ১৭৯৪)

চার. কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

ادعُوا اللهَ وأنتم مُوقِنُون بالإجابةِ واعلَموا أنَّ اللهَ لا يَستَجيبُ دُعاءً مِن قلبٍ غافِلٍ لاهٍ.

তোমরা কবুল হওয়ার দঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ কোনো গাফেল-উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না। (জামে তিরমিযী : ৩৪৭৯; হাদীসটি হাসান)

পাঁচ. পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে দোয়া করা। যা চাইবে তা পাওয়ার জন্য পরিপূর্ণ আগ্রহ প্রকাশ করা। কারণ, যে জিনিসের প্রতি আগ্রহ যত বেশি হয় তা তত তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।

হযরত আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا يَقُولَنَّ أحَدُكُمْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي إنْ شِئْتَ، اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمِ المَسْأَلَةَ، فإنَّه لا مُكْرِهَ له.

(দোয়ার সময়) তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলে যে, হে আল্লাহ, আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি চাইলে আমার প্রতি দয়া করুন। বরং পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে চাইবে। কারণ, তার ওপর চাপ প্রয়োগ করার কেউ নেই। (সহী বুখারী : ৬৩৩৯)

সহী ইবনে হিব্বানের একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إذا دعا أحَدُكم فلْيُعظِمِ الرَّغبةَ فإنَّه لا يتعاظَمُ عليه شيءٌ إلا أعطاه.

তোমাদের কেউ দোয়া করার সময় যেন পূর্ণ আগ্রহ প্রকাশ করে। কারণ, আল্লাহ তাআলার কাছে যখন কোনো কিছু খুব আগ্রহ ও গুরুত্বের সাথে চাওয়া হয় তখন তিনি তা দেন। (সহী ইবনে হিব্বান : ৮৯৬)

ছয়. দোয়া করার পর তাড়াহুড়া না করা। অর্থাৎ দোয়া করে তা না পেলে একথা না বলা যে, আমি দোয়া তো করেছি কিন্তু কবুল হয়নি। বরং বারবার চাইতে থাকা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

يستجاب لأحدكم مالم يعجل يقول دعوت فلم يستجب لى.

তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত তাড়াহুড়া না করে ততক্ষণ পর্যন্ত তার দোয়া কবুল করা হয়। (তাড়াহুড়ার অর্থ হলো) এ কথা বলা যে, দোয়া তো করেছি কিন্তু কবুল হয়নি। (সহী বুখারী : ৬৩৪০; সহী মুসলিম : ২৭৩৫)  

সাত. দোয়া করার সময় যথাসম্ভব অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করার চেষ্টা করা এবং তেমন কোনো প্রয়োজন না হলে নিম্নস্বরে দোয়া করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ.

তোমরা তোমাদের রবকে অনুনয়-বিনয় ও নিম্নস্বরে ডাকো। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। [সূরা আরাফ (০৭) : ৫৫] (কিতাবুল মাসায়েল; মুফতি মুহাম্মদ সালমান মানসূরপূরী দা.বা. : ৩/৪৪০-৪৪৫; পরিমার্জিত)

দোয়ার ব্যাপারে কিছু আরজ

দোয়ার ব্যাপারে ভাইয়ের খেদমতে আমার প্রথম আরজ হল, রমযানে আমরা আমাদের দোয়া-মোনাজাতের আমলটির পরিমাণ আগের চেয়ে আরও বাড়াই। কুরআন-হাদীসে আম যে সব দোয়া এসেছে ওগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করি। আম দোয়া বলে উদ্দেশ্য, যে দোয়াগুলো বিশেষ কোনো সময়ের সাথে বাঁধা না। সব সময়ই পড়া যায়। এ ক্ষেত্রে আমরা চাইলে ‘মুনাজাতে মাকবুল’ কিতাবটি দেখেও দোয়া করতে পারি। উর্দু বা বাংলা যে কোনো একটি মুনাজাতে মকবুল সংগ্রহ করে ওটা দেখে দেখে নিয়মিত কিছু কিছু করে দোয়া করলাম। মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে এর সুন্দর অনুবাদ বের হয়েছে। নেটে মুনাজাতে মাকবুলের অ্যাপও আছে। বাংলাতেও আছে। উর্দুতেও আছে। এ ছাড়া ‘হিসনে হাসিন’ কিতাবটি দেখেও পড়তে পারি। রাহনূমা প্রকাশনী থেকে এর অনুবাদ বের হয়েছে। বা অন্য যেকোনো কিতাব দেখেও দোয়া করতে পারি, আমাদের যেভাবে সুবিধা হয়।

দোয়া ও আযকারের রুহ

দোয়ার ক্ষেত্রে যে কথাটি ভাইদের খেদমতে বিশেষভাবে আরজ করতে চাচ্ছি তা হল, দোয়া ও আযকারের বাক্যগুলো পড়ার সময় আমরা অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়ার চেষ্টা করব।

দোয়া ও আযকারের রুহ হল, অন্তরের উপস্থিতি ও অন্তরের বিনয়। আর এটি তখনই হয় যখন দোয়া ও আযকার অর্থ বুঝে, অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে পড়া হয়। যদিও অর্থ না বুঝে পড়লেও ফায়দা থেকে খালি না কিন্তু অর্থ বুঝে, অর্থের প্রতি মনোযোগ দিয়ে পড়লে ফায়দা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। দোয়ার মূল প্রাণও এটাই। অল্প কথায় বললে, দোয়া আসলে করার জিনিস। শুধু পড়ার জিনিস না। অবশ্য বুঝা ছাড়া পড়লে যে ফায়দা হয় না এমন আবার না। ফায়দা তো আছেই। তবে আমরা চেষ্টা করব, আমাদের সবগুলো দোয়া যেন করার মতো হয়। শুধু পড়া না হয়। তা সকাল-বিকালের আযকার হোক কিংবা আম দোয়া ও মোনাজাত হোক। আপনি আল্লাহর কাছে কী চাচ্ছেন? তা যেন দোয়ার সময় আপনার অন্তরে উপস্থিত থাকে।

সকাল-বিকালের আযকার পড়ার সময় যে দোয়াটি মনযোগ ছাড়া বেখেয়ালির সাথে পড়া হয়ে যাবে ওটা আমরা আবার পড়ে নিব। মনযোগ সহকারে পড়া হলেই সেটি দোয়া হয়েছে বলে ধরব।

দোয়া করার সময় তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখব

মুহতারাম ভাইয়েরা, দোয়া ও আযকার পড়ার সময় আমরা যদি তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারি তাহলে দোয়া ও আযকারের কাঙ্ক্ষিত ফায়দা আমরা অবশ্যই পাবো ইনশাআল্লাহ।  

প্রথম বিষয় হল, দোয়া ও আযকারগুলো পড়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার ওপর শতভাগ একিন এবং আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ হুসনে যন (সুধারণা) রাখব যে, এ দোয়া ও আযকারের যে ফজিলত ও ফায়দার কথা কুরআন-হাদীসে এসেছে তা আমি অবশ্যই পাবো ইনশাআল্লাহ। উদাহরণত, কোনো কোনো দোয়ার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এটি কেউ সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে তার ওপর কোনো ধরনের বিপদ আসবে না। তো ওই দোয়াটি পড়ার সময় আমাদের এ একিন থাকবে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বলেছেন, কোনো ধরনের বিপদ আসবে না, বাস্তবেও তা-ই হবে। এর ব্যতিক্রম কোনো ভাবেই হবে না। হতেই পারে না। আমি যেহেতু ওই দোয়াটি পড়ার তাওফীক লাভ করেছি অতএব আজ আমার ওপর ছোট বড় কোনো ধরনের বিপদই আসবে না ইনশাআল্লাহ। প্রতিটি দোয়া আমরা এমন একিন নিয়ে পড়ব ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয় বিষয়টি হল, প্রতিটি দোয়া ও যিকির অর্থ বুঝে, অর্থের প্রতি মনোযোগ দিয়ে পড়ব। আমি আমার আল্লাহকে কী বলছি, তা যেন আমার অন্তরে উপস্থিত থাকে। পাশাপাশি এই একিন রাখব যে, আল্লাহ আমার প্রতিটি আবেদন শুনছেন।

তৃতীয় বিষয়টি হল, দোয়া ও আযকারগুলো পড়ার সময় আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্বের কথা এবং নিজের দূর্বলতা ও অক্ষমতার কথা অন্তরে হাজির রাখব। আল্লাহ কত বড়! আর আমি কত দূর্বল, কত অসহায়! আমরা যখন বড় কারো সাথে সামনাসামনি কথা বলি তখন কীভাবে কথা বলি? কত আদব রক্ষা করে কথা বলি। দোয়া তো মূলত আল্লাহর সাথে কথা বলাই। তাই দোয়া করার সময় আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্বের কথা চিন্তা করে খুব আদবের সাথে দোয়া করব।   

আমার সকল ভাইদের খেদমতে আরজ থাকবে, যে সব দোয়া ও আযকার আমরা নিয়মিত পড়ে থাকি ধীরে ধীরে আমরা এগুলোর অর্থ খুব ভালোভাবে বুঝে নেবো এবং পড়ার সময় এই তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে দোয়াগুলো পড়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব। শতভাগ একিন ও হুসনে যন। অর্থের প্রতি পূর্ণ মনযোগ এবং অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্বের উপস্থিতি। তাহলে দোয়া ও আযকারের কাঙ্ক্ষিত ফায়দা অবশ্যই আমরা পাবো ইনশাআল্লাহ।

মাসনূন দোয়াগুলোও গুরুত্বসহকারে পড়ব

দোয়া ও আযকারের ব্যাপারে আরও দুটি আবেদন ভাইদের খেদমত পেশ করতে মন চাচ্ছে। এ আবেদন দুটি বছর দেড়েক আগে ভাইদের খেদমতে পেশ করেছিলাম। হয়তো এখানে উপস্থিত কোনো কোনো ভাইয়ের নজরে পড়ে থাকতে পারে।

প্রথম আবেদন হল, আমরা সকাল বিকালের আযকারগুলো যেমন গুরুত্ব সহকারে পড়ে থাকি অন্যান্য সময়ের মাসনূন দুআগুলোও ওরকম গুরুত্ব সহকারে পড়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। যেমন, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার দোয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া, ঘরে প্রবেশ করার দোয়া, পানাহার করার দোয়া ইত্যাদি। যদি কখনো কোন দোয়া যথাসময়ে পড়তে ভুলে যাই তাহলে পরে যখনই মনে হবে তখনই পড়ে নেব। যেমন ধরুন, আপনি ঘর থেকে বের হলেন, কিছুদূর যাওয়ার পর বাসে উঠলেন, তখন মনে হল, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়াটা পড়া হয়নি। বাসে উঠার দোয়াটাও পড়া হয়নি। তাহলে এখন ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া, বাসে উঠার দোয়া, দুটোই পড়ে নিন। মনে রাখবেন ভাই, প্রত্যেকটা দোয়া এক একটি ঔষধের মতো। ডাক্তার আপনাকে কোন ঔষধ দিলে যদি নির্ধারিত সময়ে তা খেতে ভুলে যান তাহলে পরে যখন মনে হয় তখন তো খেয়ে নেন। তাই না ভাই?

ঠিক তেমনি এক একটি দোয়া আমাদের আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেয়া এক একটি ঔষধের মতো। প্রতিটা দোয়াতে এমন এমন কিছু প্রার্থনার জিনিস আছে যা পাওয়ার জন্য ওই দোয়াটা আমাদেরকে পড়তে হবে। তাই আমরা চেষ্টা করব, কোনো দোয়া নির্ধারিত সময়ে পড়তে না পারলে দোয়াটা যেন একদম ছুটে না যায়। পরে হলেও পড়ে নেব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করে, আমীন।

মাসনুন দোয়াগুলোর পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করব

দ্বিতীয় যে আবেদনটি ভাইদের খেদমতে করতে চাচ্ছি তা হল, মাসনুন দোয়াগুলোর ক্ষেত্রে আমরা প্রতিটি কাজের শুধু একটি বা দুটি নয় বরং হাদীসে এক একটি কাজের যতগুলো দোয়া এসেছে ধীরে ধীরে সবগুলো দোয়াই মুখস্থ করে ফেলা এবং আমলে নিয়ে আসার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। সাধারণ লোকজন যেমন কোন কাজের একটা বা দুইটা দোয়াই জানে, আমরা যেন তাদের মতো না হই ভাই। আমরা প্রতিটা কাজের জন্য হাদীসে যতগুলো দোয়া এসেছে ধীরে ধীরে সবগুলোই নিজেদের আমল নিয়ে আসার চেষ্টা করব। যেমন ধরুন, ঘুমানোর পূর্বে সাধারণভাবে সবাই একটি দোয়াই পড়ে থাকে কিন্তু হাদীসে ঘুমানোর পূর্বে সাত আটটা দোয়া এসেছে। অন্তত হিসনুল মুসলিমে যে দোয়াগুলো এসেছে আমরা যদি ধীরে ধীরে ওগুলো মুখস্থ করে আমলে নিয়ে আসার চেষ্টা করি তাহলে ইনশাআল্লাহ সকাল বিকালের আযকারের মতো এ দোয়াগুলোও আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর এটি তো আমাদের সবারই জানা যে, একজন মুসলমানের জন্য দোয়া ও আযকার অনেক বড় হাতিয়ার। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করেন। আমীন।

দোয়া করা স্বতন্ত্র একটি আমল

মুহতারাম ভাই, একটি কথা আমরা সবাই জানি, দোয়া করা স্বতন্ত্র একটি আমল। স্বতন্ত্র একটি ইবাদত। বাহ্যত কবুল হোক বা না হোক।

দোয়ার সবচেয়ে বড় ফায়দা যা বান্দা সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যায় তা হল, বেশি বেশি দোয়া করার দ্বারা আল্লাহর সাথে বান্দার তাআল্লুক-সম্পর্ক বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দোয়া আমরা সর্ব প্রথম নিজেদের জন্য করব। আমরা নিজেরা দোয়ার সব চেয়ে বেশি মুহতাজ। আমরা মানে আমরা প্রত্যেকে। আমরা যেন শাহাদাত পর্যন্ত জিহাদ ও শাহাদাতের পথে অবিচল থাকতে পারি। এরপর আমাদের পরিচিত অপরিচিত সকল ভাইয়ের জন্য দোয়া করব এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করব। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে দুনিয়া ও আখরাতের সব ধরণের অকল্যাণ থেকে হেফাযত করেন এবং সব ধরণের কল্যাণ লাভে ধন্য করেন।

একটি বা দুটি দোয়া সারাদিন করা

দোয়ার ব্যাপারে আরেকটি আরজ হল, মুনাজাতে মাকবুল বা হিসনে হাসিন থেকে কিংবা অন্য যে কোন কিতাব থেকে প্রতিদিন আমরা একটি বা দুটি দোয়া মুখে নিয়ে বারবার পড়তে থাকার চেষ্টা করব। একটি বা দুটি দোয়াই বারবার পড়ব, যত বেশি পারি। শতভাগ একিন নিয়ে পড়ব। আল্লাহ আমার দোয়া অবশ্যই কবুল করবেন। যা চাচ্ছি তা যদি দুনিয়াতেই পেয়ে যাই তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। যদি না পাই তাহলেও আলহামদুলিল্লাহ। কারণ, কেয়ামতের দিন এ সব দোয়ার পুরস্কার অনেক বড় আকারে পাব ইনশাআল্লাহ, ওখানে আমার প্রয়োজনও হবে অনেক বেশি। 

বেশি বেশি দোয়া করা অনেক মূল্যবান একটি আমল ভাই, রমযান চলছে আমরা দোয়া-মোনাজাতের আমলের প্রতি খাস ভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ইহতেমাম করি ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ করেন এ আমল যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।

মাঝে মাঝে হাত তুলে দোয়া করা

দোয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় আরজ হল, আমরা চেষ্টা করি, রমযানে আমাদের হাত তুলে দোয়ার করার পরিমাণটা যেন আগের চেয়ে আরও বেশি হয়। বিশেষ করে ইফতার ও সাহরির সময়।

শরহে সুন্নাহতে হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إنَّ اللهَ حَيِيٌّ كريمٌ، يَسْتَحْيِي إذا رفَعَ الرجل إليهِ يدَهَ أنْ يرُدَّها صِفرًاخائبين.

আল্লাহ খুবই লজ্জাশীল এবং বড় দয়ালু। কোন ব্যক্তি যখন তাঁর কাছে হাত তোলে তখন খালি হাতে তাকে ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জা পান। (জামে তিরমিযী : ৩৫৫৬; হাদীসটি সহী)

এ জন্যই দোয়া করার সময় হাত তুলে দোয়া করা মুস্তাহাব। যদিও হাত তোলা ছাড়াও দোয়া করা যায়।  

নফল নামাযের সেজদায় গিয়ে দোয়া করা

দোয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ আরজ হল, রমযানে আমরা নফল নামাযের সেজদায় গিয়ে দোয়া করার আমলটিও করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। এর পরিমাণটাও যেন বেশি হয়। এটিও যেন ধীরে ধীরে আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়।

সহী মুসলিমে হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَقْرَبُ ما يَكونُ العَبْدُ مِن رَبِّهِ، وهو ساجِدٌ، فأكْثِرُوا الدُّعاءَ.

বান্দা সেজদা অবস্থায় তাঁর রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। অতএব তখন তোমরা বেশি বেশি দোয়া কর। (সহী মুসলিম : ৪৮২)

এ তো হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, যেখানে তিনি আমাদেরকে সেজদায় পড়ে বেশি বেশি দোয়া করার উপদেশ দিয়েছেন। হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তাঁর আমল এসেছে।

হাদিসটি মাজমাউয যাওয়ায়েদে হাসান সনদে এসেছে। পুরো হাদিসটি হল, হযরত আলী রাযি. বলেন,

لمّا كان يومُ بَدْرٍ قاتَلْتُ شيئًا مِن قِتالٍ ثمَّ جِئْتُ مُسْرِعًا لأنظُرَ ما فعَل رسولُ اللهِ ﷺ فجِئْتُ فإذا هو ساجدٌ يقولُ يا حيُّ يا قيُّومُ يا حيُّ يا قيُّومُ لا يَزيدُ عليهما ثمَّ رجَعْتُ إلى القِتالِ ثمَّ جِئْتُ وهو ساجدٌ يقولُ ذلك ثمَّ ذهَبْتُ إلى القتالِ ثمَّ رجَعْتُ وهو يقولُ ذلك ففتَح اللهُ عليه.

বদরের যুদ্ধের দিন আমি কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে দ্রুত এলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করছেন, তা দেখার জন্য। এসে দেখি, তিনি সেজদায় পড়ে يا حيُّ يا قيُّوم،ُ يا حيُّ يا قيُّومُ  বলে যাচ্ছেন। এর বেশি আর কিছুই বলছেন না। আমি যুদ্ধে চলে গেলাম। একটু পর ফিরে এসে দেখি তিনি আগের মতোই সেজদায় পড়ে يا حيُّ يا قيُّومُ، يا حيُّ يا قيُّومُ বলছেন। আমি আবার যুদ্ধে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তাঁকে সেই আগের অবস্থাই পেলাম। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিজয় দান করেন। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/১৫০) 

এ হাদীস থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলও পাওয়া গেল। সেজদায় দোয়া করার বিষয়টি ফরজ নামাযে পাওয়া যায় না। তাই এটি হবে কেবল নফল নামাযে। নফল নামাযে সেজদা গিয়ে যত খুশি দোয়া করা যায়। এ আমলটিও আমরা রমযানে বেশি বেশি করার চেষ্টা করি ইনশাআল্লাহ।

যেহেতু নামাযের ভিতরে দোয়া করা হবে তাই দোয়া আরবিতে করতে হবে এবং কুরআনে হাদীসে এসেছে এমন দোয়া করলেই ভালো। অবশ্য আরবিতে নিজের যে কোনো হাজতের জন্যও এ সময় দোয়া করা যাবে। আরবি ছাড়া অন্য কোন ভাষায় দোয়া করা যাবে না। এটি তো আমাদের সবারই জানা আছে।

শেষ রাতে ইস্তেগফার করা

দোয়ার ক্ষেত্রে পঞ্চম আরজ হল, শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে সাহরি খেয়ে যখন একদম শেষ সময় হবে তখন আমরা অবশ্যই ইস্তেগফারের আমল করব। রাতের শেষ ভাগে ইস্তেগফার করা অনেক মূল্যবান একটি আমল।

আল্লাহ তাআলা তাঁর নেকবান্দাদের গুণাবলীর মধ্যে এটিকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন

وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالأَسْحَارِ

(তারা) শেষ রাতে ইস্তেগফারেরত থাকে। (সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৭)

وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

তারা শেষ রাতে ইস্তেগফার করে। (সূরা যারিয়াত : (৫১) : ১৮)

শেষ রাতে ইস্তেগফার করার আমলটি কিয়ামুল লাইল থেকে আলাদা একটি আমল। রমযানের বাইরে যদি কখনো কোন কারণে কিয়ামুল লাইল করতে না পারি তবুও বিছানায় শুয়ে শুয়ে হলেও যেন এই আমলটি হয়ে যায়। তাহলে একটি আমল ছুটলেও আরেকটি ছুটল না।

রযমানের সময়গুলোর কদর করি

সর্বশেষ আরজ হল, রযমানের প্রতিটি সময় খুবই মূল্যবান। এটি যেমন আমাদের জন্য ঠিক তেমন আমাদের ঘরে যারা আছেন তাঁদের জন্যও। তাই আমভাবে যে কিছু বদ রসম চালু হয়ে গেছে যে, ইফতারিতে-সেহরিতে হরেক রকমের আইটেম তৈরি করতে হবে, আমরা ওগুলো থেকে যথাসম্ভব বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। এতে আমাদের ঘরে যারা আছেন তাঁরাও সন্ধ্যার দিকে এবং শেষ রাতের দিকে একটু বেশি আমল করার সুযোগ পাবেন ইনশাআল্লাহ।  

মুহতারাম ভাইয়েরা, রমযানে সন্ধ্যা রাতে এবং শেষ রাতে আমাদের খাবারের পরিমাণ যেন অন্য সময়ের চেয়ে বেশি না হয়, বিশেষ করে ইফতারের সময়।

সন্ধ্যা রাতে বেশি খেলে তারাবি এবং কিয়ামুল লাইলে ব্যাঘাত ঘটবে আর সাহরিতে বেশি খেলে ঘুম বেশি আসবে ফলে এমন একটি আমল ছুটে যাবে যা আমরা রমযানের বাইরে ইহতেমাম করে থাকি।

কী আমল ভাই সেটি? যা আমরা রমযান ছাড়া অন্য মাসে ইহতেমাম করি কিন্তু রমযানে আমাদের কোন কোন ভাই হয়তো পারেন না। কী আমল ভাই সেটা?

সেটা হল, ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত আযকার ও তেলাওয়াতে মশগুল থাকা এবং ইশরাকের সময় হলে প্রথম সময়েই ইশরাক পড়ে নেয়া এরপর ব্যায়াম করা।

মুহতারাম ভাই, যে আমলটা আমরা অন্য মাসে ইহতেমাম করি রমযানে তো ওটার ইহতেমাম আরও বেশি করা দরকার, তাই না ভাই?

এটি আমরা তখনই পারব যদি সাহরিতে একটু কম খাই। সাহরি খেয়ে ফজরের নামায পড়ে আগের মতো তেলাওয়াত ও আযকারে মশগুল থাকলাম। প্রয়োজনে একটু হাঁটতে থাকলাম। হেঁটে হেঁটেও তেলাওয়াত করতে থাকলাম। ইশরাকের সময় হলে ইশরাক পড়ে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করে তারপর ঘুমালাম।

আজ কথা এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কথাগুলোর ওপর আমল করার তাওফীক দান করেন এবং শাহাদাত পর্যন্ত জিহাদ ও শাহাদাতের পথে অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন। সবশেষে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ জান্নাত জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করেন আমীন।  

وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله وأصحابه أجمعين

وآخردعوانا أن الحمد لله رب العالمين

 

************

031676a9c756eed41f8148ac4ed714c3.png
مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الفردوس للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল ফিরদাউস মিডিয়া ফাউন্ডেশন
In your dua remember your brothers of
Al Firdaws Media Foundation